
চলমান এসএসসি, দাখিল পরীক্ষা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন পাঠদান অব্যাহত রাখতে নোয়াখালীর চাটখিলে উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেল থেকে উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য আলাদা বিশেষ লাইনে অকটেন সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
জ্বালানি সংকটের কারণে গত কয়েকদিন ধরে এলাকার পাম্পগুলোতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘ লাইন ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। বিষয়টি নজরে আসার পর শিক্ষকদের বিড়ম্বনা কমাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শিক্ষকরা যেন তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট না করেন, সেজন্য তারা নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে আলাদা বিশেষ লাইনে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন।
এই উদ্যোগ সম্পর্কে চাটখিল উপজেলার কলেজ শিক্ষক মহিন উদ্দীন বাবু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “জ্বালানি সংকটের এই সময়ে তেলের পাম্পে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সবার জন্যই বড় একটি ভোগান্তি। কর্মজীবীদের জন্য যা সাধারণের চেয়ে আরেকটু বেশি। দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক সময় কলেজের নির্ধারিত ক্লাসে সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ত। ইউএনও মহোদয় শিক্ষকদের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেছেন এবং আমাদের সময়ের গুরুত্ব বুঝে এই বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন, তার জন্য আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “একদিকে এসএসসি, দাখিল ও সমমনান পরীক্ষা চলমান আরেকদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুরোদমে ক্লাস চলছে। এসময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যাতে তেল নিতে এসে দীর্ঘক্ষণ রোদে বা লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট না পান, সময় নষ্ট না হয়, সেজন্যই মূলত এই ব্যবস্থা। তারা যেন কোনো বিড়ম্বনা ছাড়াই তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতেই প্রশাসনের এই বিশেষ ব্যবস্থা।” অন্যান্য পেশাজীবীদেরকেও পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আজ বিকেলে চাটখিলের তারাজ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ গ্রাহকদের লেনের পাশেই শিক্ষকদের জন্য রাখা বিশেষ লেনে সুশৃঙ্খলভাবে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেখানে উপস্থিত থেকে তেল সরবারাহ তদারকি করছেন।
এই সুবিধার ফলে উপজেলার সকল স্তরের শিক্ষকরা অত্যন্ত খুশি। স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষকদের সম্মান দেওয়ার এই সংস্কৃতি সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।