
নোয়াখালীর চাটখিল পৌরবাজারে সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ওজনে কম দেওয়ার অপরাধে একটি মৎস্য আড়তকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে দুপুরে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে সোমবার প্রায় ত্রিশটির মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, ‘সাগরিকা মৎস্য আড়ত’-এ ৭০০ গ্রামের প্রতিটি বাটখারায় ৫ গ্রাম করে ওজন কম দিচ্ছে, যা ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন ২০১৮’-এর ২৯ ধারার একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। ওজনে এই কারচুপির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।
বাজারে মাছ কিনতে আসা আব্দুর রহিম নামের এক ক্রেতা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অনেক সময় বুঝতে পারি না যে আমাদের ওজনে কম দেওয়া হচ্ছে। ৭০০ গ্রামে ৫ গ্রাম কম মনে হলেও সারাদিনে আড়ৎদারেরা শত শত কেজি মাছ বিক্রি করেন। এতে সাধারণ মানুষের সাথে বড় অঙ্কের কারচুপি হয়। প্রশাসনের এমন তদারকি আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতাদের মনে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এমন অভিযান যেন নিয়মিত চালানো হয়।”
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, “ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বাজারে সঠিক পরিমাপ বজায় রাখতে আমাদের এই নিয়মিত তদারকি। ব্যবসায়ীদের প্রতিবছর তাদের বাটখারাগুলো সঠিক আছে কি না তা যাচাই করার বিধান থাকলেও অনেকে তা মানছেন না। ওজনে কম দিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাজারের স্থিতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযান পরিচালনাকালে বিএসটিআই নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের প্রতিনিধিদল এবং চাটখিল থানা পুলিশের একটি টিম ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।