
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পুরুষোত্তমপুর বায়তুল আমান জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা সফিকুল ইসলামকে (৩৮) পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একই মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি ও স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা আব্দুল হান্নানের (৫০) বিরুদ্ধে। টাকা দিয়ে নিজের ছেলেকে ঝাড়ফুঁক করানোর পর কাজ না হওয়ায় মসজিদের ইমামের ওপর এই হামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে আসরের নামাজের প্রস্তুতির সময় মসজিদের পেশ ইমামের কক্ষ এই হামলার ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী মাওলানা সফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে চাটখিল থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে আব্দুল হান্নানসহ আরও তিনজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে মাওনালা সফিকুল ইসলামের অভিযোগে ঝাড়ফুঁক করানোর কোনো কথা উল্লেখ নেই। সফিকুল ইসলাম তার লিখিত অভিযোগে লেখেন, আব্দুল হান্নান দীর্ঘদিন ধরে বায়তুল আমান জামে মসজিদের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনকালে মসজিদের ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেন। এর ফলে মসজিদ কমিটি তাকে বাদ দিয়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুল হান্নান ইমামের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।
তবে মসজিদ কমিটির বর্তমান সভাপতি হারুন উর রশিদ ঝাড়ফুঁকের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “সফিকুল ইসলাম এই মসজিদে মুয়াজ্জিন হলেও তিনি পাঞ্জেগানা নামাজে ইমামতি করেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে সাবেক সেক্রেটারি আমাদের পেশ ইমামকে বলতে পারতেন। কিন্ত এভাবে হামলা করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। আমরা কাজ না হলে ডাক্তার পরিবর্তন করি, উনিও অন্যকারো কাছে যেতে পারতেন।”
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে মাওলানা সফিকুল ইসলাম যখন আসরের নামাজের প্রস্তুতির জন্য মসজিদের ভেতরে অবস্থান করছিলেন, তখন আব্দুল হান্নান তার সহযোগীদের নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে মুয়াজ্জিনকে তাদের বাইকে উঠতে বলেন। বাইকে না উঠায় হান্নান মসজিদের পেশ ইমামের রুমে থাকা টেবিল ফ্যান দিয়ে ইমামের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে করতে টেবিল ফ্যান ভেঙ্গে পেলেন। এতে ইমামের মাথা ফেটে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার অভিযুক্তরা ইমামের পকেটে থাকা নগদ টাকা এবং প্রায় ১৩,০০০ টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা ইমামকে চাটখিল ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেন, অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন। উপস্থিত লোকজন ইমামকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মসজিদ কমিটির সাবেক সেক্রেটারি ও ইউনিয়ন শ্রমিক লীগ সভাপতি আব্দুল হান্নানের সাথে বারবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। আব্দুল হান্নান ও তার তার পরিবার বিগত ২৬ বছর যাবৎ এই মসজিদের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বলেন, “মুয়াজ্জিনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় মুসল্লি ও ওলামায়ে কেরামরা একজন মুয়াজ্জিন ও পাঞ্জেগানা ইমামের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সকল আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।