উচ্চশিক্ষার সনদ হাতে নিয়ে চাকরির পেছনে না ছুটে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে গ্রামে তৈরি করেছিলেন এক আধুনিক ডেইরি ফার্ম। সাফল্য ও স্বীকৃতির স্মারক হিসেবে পেয়েছিলেন সরকারি পুরস্কারও। কিন্তু সেই সাফল্যই এখন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে চাটখিলের তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হানিফের জীবনে। প্রতিপক্ষের হিংসা ও ঈর্ষার বলি হয়ে এখন বন্ধ হওয়ার মুখে তাঁর খামার; আর সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় চিরতরে চোখের দৃষ্টি হারাতে বসেছেন তাঁর ৬০ বছর বয়সী প্রবীণ পিতা।
আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে চাটখিল পৌরবাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হানিফ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ হানিফ জানান, ২০২০ সালে ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর (পোস্ট গ্রাজুয়েশন) ডিগ্রি সম্পন্ন করে বিদেশে না গিয়ে চাটখিল উপজেলার দক্ষিণ ঘাটলাবাগ গ্রামে নিজের পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমিতে ‘হানিফ এগ্রো ফার্ম’ প্রতিষ্ঠা করেন। মাত্র ২টি গরু নিয়ে যাত্রা শুরু করে অক্লান্ত পরিশ্রমে বর্তমানে তাঁর খামারে ১৭টি উন্নত জাতের গরু রয়েছে। খামারটিতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, সোলার এনার্জি ও জৈব সার প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য উপজেলা প্রাণীসম্পদ দপ্তর কর্তৃক তিনি ২০২৫ সালে উপজেলার সেরা তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কৃত হন।
তিনি অভিযোগ করেন, খামারের সফলতা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে গত ২২ আগস্ট সকালে দুষ্কৃতকারীরা খামারে যাতায়াতের প্রধান রাস্তায় বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরবর্তীতে ওই দিন রাত ১১টার দিকে অবলা প্রাণীগুলোকে খাবার দিতে গেলে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় তাঁর পিতা নুরুর জামানের বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আঘাতের তীব্রতায় তাঁর চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট হওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে।
হানিফ আরও জানান, ঘটনার পর চাটখিল থানা পুলিশ এজাহার গ্রহণ না করায় বাধ্য হয়ে ২৪ আগস্ট নোয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর মামলা দায়ের করা হয়েছে। খামারটি অবিলম্বে বেড়ামুক্ত করা, গবাদিপশু ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানান তিনি।
চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মোন্নাফ বলেন, "আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খামারে পশুদের খাবার সরবরাহে যেনো কোনো বাঁধা সৃষ্টি না হয়, সেটা নিশ্চিত করেছি।"