রোগী আনার জন্য গাড়ী নিয়ে ঢাকায় গিয়ে লাশ হলেন নোয়াখালীর দুই বন্ধু মিজান ও জাকির। সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাজধানীর রমনার মৌচাকে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে এই দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।
নিহত মো. মিজানুর রহমান (৪০) নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার রামনারায়ণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোমাতলী গ্রামের দলিতার বাড়ির মৃত আবদুল হাকিমের সন্তান। মো. জাকির হোসেন (৩০) একই উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের লটপটিয়া গ্রামের খামার বাড়ির আবু তাহেরের সন্তান। তারা উভয়ই পেশায় ড্রাইভার।
রামনারাণপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোবারক উল্যা বলেন, ‘শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় তারা দুজন আমার সাথে একসাথে বসে চা খায়। এরপরই তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলো। পরে আজ দুপুরের পর পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারলাম তারা মারা গেছে। মিজান আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল।’
মৃত্যুর খবর শোনার পর তাদের দুজনের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত মিজানের আরেক ভাই ২০০৮ ইতালি যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। যার সন্ধান পায়নি এখনো। বাকি তিন বোন স্বামীর বাড়ি থাকায় মাকে নিয়ে থাকতেন মিজান। মিজানের মা জাহানার বেগম বারবার জানতে চাইছেন, তাঁর ছেলে কোথায়!
রোববার (১০ আগস্ট) ভোরে প্রাইভেটকারটি হাসপাতালের ভেতরে ঢোকে এবং সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তাদের মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। রোববার তাদের রোগী রিলিজ হওয়ার কথা থাকলেও সেদিন তাদের রোগীকে রিলিজ দেওয়া হয়নি। এদিকে গাড়ীর মালিক জোবায়ের আহমেদ সৌরভের সাথেও রোববার থেকে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গাড়িটি শনিবার রাতে ঢাকা যাওয়ার সময় গাড়ীটির মালিকও সে গাড়ীতেই ঢাকায় যান।।
পুলিশ জানায়, একটি মরদেহ ড্রাইভারের পাশের সিটে পড়েছিল, আরেকটি গাড়ির পেছনের সিটে পড়েছিল। প্রাইভেটকারটির সিরিয়াল নম্বর ঢাকা মেট্রো ৩৬-৩৭৪৫।
এ বিষয়ে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মৌচাকে সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের পার্কিংয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকার তথ্য দিয়ে গাড়িটি হাসপাতালের গ্যারেজে প্রবেশ করে। বেলা ১১টার দিকে গাড়িতে মরদেহ থাকার তথ্য পাওয়া যায়। গরমে মরদেহে পচন ধরেছে।’