রাজধানীর মিরপুরে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ৮ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার প্রতিবাদে নোয়াখালীর চাটখিলে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ রবিবার (২৪ মে) সকাল ১১টায় চাটখিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি শুরু হয়। 'স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম অব চাটখিল'-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ব্যান্ডিং বাংলা ইয়ুথ, ভলেন্টিয়ারি ব্লাড ডোনার ক্লাব, ইয়ুথ ফর ইউনিটি এন্ড জাস্টিস, মানবসেবা সংঘ (সিংবাহুড়া), প্রতিভা ব্লাড ডোনেট ক্লাব, এন সোশ্যাল ব্লাড ডোনেট ক্লাব, অমরপুর সমাজসেবা সংস্থা, খতিবে আজম আল্লামা হাবিবুল্লাহ মেজবাহ স্মৃতি পাঠাগার, ছুয়ানী মার্কেট ব্লাড ডোনেট ক্লাবসহ উপজেলার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ ব্যানার ও প্লেকার্ড হাতে অংশ নেন।
চাটখিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন শেষে একটি প্রতিবাদী র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চাটখিল পৌরবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রধান প্রধান মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা খুনি সোহেল রানার ফাঁসির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগানে কাঁপিয়ে তোলেন।
এ সময় "আসিয়া থেকে রামিসা, কোর্ট-কাচারী সব মিছা", "ধর্ষকের আস্তানা, বাংলাদেশে হবে না", "আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাইরে?", "We want justice", " Justice for Ramisa." এরকম বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে র্যালিটি শেষ হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রামিসা আমাদের বোন। তাকে যেভাবে নির্মমভাবে মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করা হয়েছে, তা কোনো সুস্থ সমাজ মেনে নিতে পারে না।
সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম অব চাটখিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নাছির উদ্দিন মোল্লা বলেন, আমরা প্রশাসনের কাছে এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই, যেন ভবিষ্যতে আর কোনো পশুপবৃত্তি সম্পন্ন অপরাধী এমন কাজ করার সাহস না পায়।
স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম অব চাটখিল সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আবিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, নিষ্পাপ শিশু রামিসার হত্যাকারী সোহেল রানা আদালতে নিজের জঘন্য অপরাধ স্বীকার করায় আর কোনো আইনি দীর্ঘসূত্রতা আমরা বরদাশত করব না। অবিলম্বে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে প্রতিদিন শুনানির মাধ্যমে আসামির দ্রুততম সময়ে ফাঁসি কার্যকর করতে হবে।
স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম অব চাটখিলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রনি, গোলাপ হোসেন ফরহাদ ছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবী তারফিনা শাহানাজ রজব ব্রান্ডিং বাংলা ইয়ুথের সভাপতি বিবি ফাতেমা আক্তার এবং স্বেচ্ছাসেবী জিএম শাকিলসহ উপস্থিত সকলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, আজ আমাদের শিশুরা ঘরে-বাইরে কোথাও নিরাপদ নয়। রামিসা হত্যার বিচার যদি দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক না হয়, তবে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা উঠে যাবে। তারা চাটখিলসহ সারা দেশের প্রতিটি শিশুর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে চাটখিল উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে ‘স্বেচ্ছাসেবী ফোরাম অব চাটখিল’-এর নেতৃবৃন্দ চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। স্মারকলিপিতে চাটখিলবাসী দাবি করেন যেন মামলাটির নিখুঁত ও অকাট্য তদন্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে ডে-টু-ডে অর্থাৎ প্রতিদিন শুনানির ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
এছাড়া চাটখিলসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও সর্বত্র শিশুদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরো কঠোর নির্দেশনা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানানো হয়।
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান স্মারকলিপি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।