
"নবায়নযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করো"—এই বলিষ্ঠ আহ্বানে নোয়াখালীর চাটখিলে পালিত হয়েছে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট বা 'গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক ডে'। শুক্রবার (৮ই মে) দুপুরে '350° Bangladesh'-এর সহযোগিতায় এবং 'Banding Bangla Youth'-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে চাটখিল উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। পরিবেশ রক্ষার স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এলাকা।
সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান মুনাফাভিত্তিক ভোগবাদী বিশ্বব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর যে নির্বিচার আঘাত চালিয়ে আসছে, বিশ্বায়ন পরবর্তী সময়ে তা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে এখনই দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং একে উপড়ে ফেলার পথে হাঁটতে না পারলে প্রাণ-প্রকৃতির ধ্বংস অনিবার্য।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বর্তমান প্রজন্মের পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা অভিযোগ করেন যে, পরিবেশের ক্ষত নিরাময়ে বিশ্বের কোথাও রাষ্ট্রের ইতিবাচক বা সদর্থক ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বরং বর্তমান ধ্বংসাত্মক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতেই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যস্ত। তারা মনে করিয়ে দেন যে, জলবায়ু সংকট কোনো নির্দিষ্ট ভূ-রাজনৈতিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি বৈশ্বিক অস্তিত্বের লড়াই।
ধর্মঘটে নির্মল ও অবিরল মেঘনা নদী ভাঙন আন্দোলনের মতো জাতীয় ইস্যুর পাশাপাশি উপকূলবর্তী নোয়াখালী অঞ্চলের সুনির্দিষ্ট দাবিদাওয়াও জোরালোভাবে উঠে আসে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং পরিবেশের বিপন্নতা রোধে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলো এই জলবায়ু ধর্মঘটে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
'Banding Bangla Youth এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিচালক আবিদ রহমান বলেন, "উপকূলীয় অঞ্চল হিসেবে আমাদের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই পরিবেশ ও জ্বালানি নীতিতে আমূল পরিবর্তন এনে আন্তরিক হতে হবে।"
পরিবেশবাদী এই তরুণরা আগামীর পৃথিবীকে বাসযোগ্য করার শপথ নিয়ে এবং প্রকৃতি বিধ্বংসী সকল কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে রাজপথে থাকার অঙ্গীকার জানিয়ে কর্মসূচি শেষ করেন।