নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চাটখিল পৌর বাজারে সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পরিচালনা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অপরাধে বিকলে বাজারের ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সর্বমোট ৬৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।
অভিযান চলাকালে বাজার ঘুরে বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র দেখতে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ডিলারশিপ ও যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করা। এছাড়া কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ফল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো রাসায়নিক না থাকার মিথ্যা গ্যারান্টি দিয়ে "ফরমালিনমুক্ত ও কার্বাইডমুক্ত" বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতিনিয়ত প্রলুব্ধ ও প্রতারিত করে আসছিলেন। পাশাপাশি বাজারের মূল রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধভাবে দখল করে পণ্যসামগ্রী রাখার কারণে চাটখিল বাজারে তীব্র যানজট ও সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছিল। এসব অপরাধ আমলে নিয়ে আইন অনুযায়ী মোট ৭টি মামলা দায়েরের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলাকালে দোষী সাব্যস্ত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিস্তারিত দণ্ড ঘোষণা করা হয়। অভিযানে আল মদিনা ডিপার্টমেন্টাল স্টোরকে অসদুপায় অবলম্বন ও ভোক্তা অধিকার আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বিধি-বহির্ভূতভাবে পণ্য ও সিলিন্ডার মজুদ রাখার দায়ে বর্ষা ইলেকট্রনিক্সকে সবচেয়ে বেশি অর্থদণ্ড দেওয়া হয়, যার পরিমাণ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা অমান্য করায় খন্দকার চশমা বিতান এবং মা ইলেকট্রনিক্স—এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে পৃথকভাবে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ গ্রাহকদের প্রলুব্ধ ও প্রতারিত করার অপরাধে গ্রামীণ বাজার নামের প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয় এবং জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে বাজারের সাধারণ চলাচলের রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় ইব্রাহীম নার্সারিকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযান শেষে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, "ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ন করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো এবং অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে জনদুর্ভোগ তৈরি করা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এলপিজি সিলিন্ডারের অবৈধ মজুদ বাজারের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। চাটখিলের বাজার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে, নিত্যপণ্যের দাম স্বাভাবিক রাখতে এবং জনস্বার্থ রক্ষায় আমাদের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।"
বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযানে চাটখিল উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চাটখিল থানা পুলিশের একটি দল এবং আনসার সদস্যরা উপস্থিত থেকে সহযোগিতা প্রদান করেন।